বাংলাদেশের কথাসাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অন্যতম পথিকৃত কে?

Updated: 1 year ago
  • সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  • হুমায়ুন আহমেদ
  • আবু ইসহাক
  • মীর মোশাররফ হোসেন
340
ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশের কথাসাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অন্যতম পথিকৃত হলেন সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা নিয়ে আসে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'লালসালু' (Tree Without Roots) ফরাসি, ইংরেজি ও চেকসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী সাহিত্য মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অস্তিত্ববাদী ভাবনা তাঁর লেখায় মূর্ত হয়ে উঠেছে, যা তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।

        
  • সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ: তিনি বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর 'লালসালু' উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সর্বজনবিদিত। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক চিন্তাধারা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
  •     
  • হুমায়ুন আহমেদ: তিনি বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক এবং পাঠকপ্রিয়তায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর রচনা সহজবোধ্য এবং বিপুল সংখ্যক পাঠককে আকৃষ্ট করেছে। তবে, আন্তর্জাতিক মানে "উন্নীত করার পথিকৃত" হিসেবে সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর মতো সমালোচকদের দৃষ্টিতে তাঁকে দেখা হয় না, বরং তিনি তার নিজস্ব শৈলী ও অগণিত ভক্তকুলের জন্য প্রসিদ্ধ।
  •     
  • আবু ইসহাক: তিনি একজন শক্তিমান কথাসাহিত্যিক। তাঁর 'সূর্যদীঘল বাড়ী' উপন্যাসের জন্য তিনি সমধিক পরিচিত। তাঁর রচনাগুলি সমাজের বাস্তব চিত্র ও মানুষের জীবন সংগ্রাম তুলে ধরে। তবে, 'আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথিকৃত' হিসেবে সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর অবদান অধিকতর স্বীকৃত।
  •     
  • মীর মোশাররফ হোসেন: তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রভাবশালী সাহিত্যিক এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের আদিপর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখক। 'বিষাদ সিন্ধু' তাঁর অমর সৃষ্টি। তিনি তাঁর সময়ে সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, কিন্তু আধুনিক বাংলাদেশের কথাসাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ তিনি ছিলেন ভিন্ন সময়ের লেখক এবং তাঁর লেখার প্রেক্ষাপটও ভিন্ন।

সুতরাং, বাংলাদেশের কথাসাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত ও সমাদৃত করার ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর অবদান অগ্রগণ্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)

বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার, জীবনসন্ধানী ও সমাজ-সচেতন শিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি ব্যক্তিজীবন ও সমাজসমস্যার প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার, মূল্যবোধের বিপর্যয়, মানসিক স্খলন ও পতনের আলেখ্য উজ্জ্বলভাবে অঙ্কন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি প্রবাসে ইউনেস্কোতে কর্মরত থাকায় স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ার ক্ষেত্রে কাজ করেন।

  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৫ আগস্ট, ১৯২২ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। আদি নিবাস নোয়াখালী।
  • তিনি 'Contemporary' নামে একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার 'দৈনিক স্টেটসম্যান' পত্রিকার সহ-সম্পাদক পদে যোগদান করেন।
  • ১৯৫৬ সালে সিডনী দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিডনীর ফরাসী দূতাবাসে কর্মরত অ্যান মারিকে বিবাহ করেন। অ্যান মারি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রাখেন আজিজা মোসাম্মত নাসরিন। যদিও তিনি এ নামে পরিচিত হননি।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬১), 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৫), 'একুশে পদক' (১৯৮৩- মরণোত্তর) পান।
  • তিনি ১০ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন। প্যারিসের উপকণ্ঠে মদোঁ-স্যুর বেলভুতে তাকে সমাহিত করা হয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ প্রকাশিত প্রথম গল্পের নাম 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি': এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।

তাঁর উপন্যাসসমূহঃ

'লালসালু' (১৯৪৮): এতে গ্রাম-বাংলায় ধর্ম নিয়ে একটি শ্রেণির ব্যক্তিস্বার্থ অর্জন ও নারী জাগরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে ঢাকার 'কমরেড পাবলিশার্স' থেকে। এর প্রকাশক ছিলেন মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। ১৯৬০ সালে উর্দু ভাষায় 'Lal Shalu' নামে করাচি থেকে প্রকাশিত হয়। অনুবাদক ছিলেন কলিমুল্লাহ। ১৯৬১ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সহধর্মিণী অ্যান-মারি-থিবো L'arbre sans racines নামে ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন, যা প্যারিসের Editions du Seuil প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে এর ইংরেজি অনুবাদ 'Tree without Roots' নামে লন্ডনের Chatto and Windus Ltd. এটি প্রকাশ করেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ নিজেই এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে এটি জার্মান, চেক, ইন্দোনেশীয় ও জাপানি ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। ২০০১ সালে উপন্যাসটি তানভীর মোকাম্মেল 'লালসালু' নামে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন। এতে মজিদ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ।

'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪): আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের চেতনাগত জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি এ উপন্যাসের মূল বিষয়। এটি মনঃসমীক্ষণমূলক অস্তিত্ববাদী উপন্যাস। এক জ্যোৎস্না রাতে আরেফ আলী ঘর থেকে বের হয়ে দেখে বাঁশঝাড়ের ভেতর এক নগ্ন যুবতির লাশ পড়ে আছে। পাশে দণ্ডায়মান কাদের মিয়া (আরেফ আলী যে বাড়িতে আশ্রিত সেই বাড়ির মালিক)। কাদেরের সহযোগী হয়ে সে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। কিন্তু এ সত্য কথাটি সে বলতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। একদিকে আশ্রয় হারানোর ভয়, অন্যদিকে সত্য গোপনের যন্ত্রণা। অবশেষে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে দাদা সাহেব ও আইন কর্তৃপক্ষের নিকট সব সত্য বলে দিয়ে নিজে অস্তিত্ববান হয়ে উঠে। আরেফ আলী চরিত্রের মাধ্যমে উপন্যাসটিতে অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন রূপায়িত হয়েছে। চরিত্র: আরেফ আলী, কাদের (দরবেশ), আলফাজ উদ্দিন (দাদা সাহেব)।

The Ugly Asian: এটি ইংরেজিতে রচিত। এটি শিবব্রত বর্মণ 'কদর্য এশীয়' (২০০৬) নামে অনুবাদ করেন।

'কাঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮): ধর্মের নামে আচার-সর্বস্বতা, বিজ্ঞানের নামে অদৃষ্টবাদিতা, বাস্তবতার নামে স্বপ্ন-কল্পনা ইত্যাদির বিরুদ্ধাচরণ, ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনের সুখ-দুঃখ ইত্যাদির সার্থক রূপায়ণ এ উপন্যাস। এ মনঃসমীক্ষণমূলক উপন্যাসে ফুটে উঠেছে একদিকে মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনালেখ্য, অন্যদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনচিত্র। এটি চেতনাপ্রবাহ রীতিতে লেখা। বাংলা সাহিত্যে ওয়ালীউল্লাহ প্রথম চেতনাপ্রবাহ রীতির প্রয়োগ ঘটান।

How to cook beans: এটি ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস। এটি শিব্রত বর্মণ 'শিম কিভাবে রান্না করতে হয়' নামে অনুবাদ করেন।

তাঁর নাটকসমূহঃ

'বহিপীর' (১৯৬০): এ নাটকে ধর্মকে কিভাবে ভণ্ড বহিপীর নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগিয়েছে তাই ফুটে উঠেছে। চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, হাসেম।

'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪): এ নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরেছেন।

'তরঙ্গভঙ্গ' (১৯৬৫): অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত মানুষের অন্তর্গত আর্তনাদ শব্দরূপ পেয়েছে এ নাটকে। চরিত্র: আমেনা, মতলুব আলী।

'উজানে মৃত্যু' (১৯৬৬): আধুনিক সভ্যতার অন্তঃসারশূন্যতা, এর ক্লান্তিকর পথপরিক্রমা, নিরাশাবাদী ভাব কিন্তু সুখের জন্য অসীম প্রতীক্ষা, যা শেষ হবার নয়, এগুলোই এ নাটকের বিষয়বস্তু। এটি একটি অ্যাবসার্ড নাটক।

তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহঃ

'নয়নচারা' (১৯৫১): এটি তার প্রথম গল্পগ্রন্থ, যা ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত হয়।

'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' (১৯৬৫): এ গ্রন্থের বিখ্যাত গল্প 'একটি তুলসী গাছের কাহিনি'।

'গল্প সমগ্র' (১৯৭২)।

Related Question

View All
  • শহীদুল্লাহ কায়সার
  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  • কাজী নজরুল ইসলাম
  • জহির রায়হান
40
  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  • সৈয়দ আলী আহসান
  • কবির চৌধুরী
  • সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
86
Updated: 5 months ago
  • সৈয়দ মুজতবা আলী
  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  • সৈয়দ শামসুল হক
  • সৈয়দ নিসার আলী
59
  • বিজয়, বিজ্ঞান, বিদংশ, বিনিবর্তন
  • বিজ্ঞান, বিজয়, বিনিবর্তন, বিদংশ
  • বিজয়, বিদংশ, বিনিবর্তন, বিঘাত
  • বিঘত, বিজয়, বিনিবর্তন, বিদংশ
93
  • নয়নচারা : গল্পগ্রন্থ
  • বহিপীর : গল্পগ্রন্থ
  • সুড়ঙ্গ : নাটক
  • কাঁদো নদী কাঁদো : উপন্যাস
62
Updated: 6 months ago
  • বহিপীর
  • লালসালু
  • কাঁদো নদী কাঁদো
  • চাঁদের অমাবস্যা
91
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই